Pages

Friday, July 27, 2012

টেকনাফের তিন সমুদ্র সৈকত


Details
বাংলাদেশ মানচিত্রের সর্ব দক্ষিণের জনপদ টেকনাফ। নানা দর্শনীয় স্থানে সমৃদ্ধ এ জায়গাটিতে আছে তিনটি মনকাড়া সমুদ্র সৈকত। সুউচ্চ পাহাড়ের নিচে বিস্তীর্ণ এখানকার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে ভালো লাগবে সবার। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে টেকনাফের দূরত্ব প্রায় ৮৬ কিলোমিটার। টেকনাফের এ তিনটি সৈকত নিয়ে কড়চার এবারের বেড়ানো। 
টেকনাফ সমুদ্র সৈকত
টেকনাফ শহর ছাড়িয়ে দক্ষিণে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে এ সমুদ্র সৈকত।  খুবই পরিচ্ছন্ন এ সৈকতে পর্যটকের আনাগোনা সবময়ই কম থাকে। তবে জেলেদের আনাগোনা এ সৈকতে বেশি। বিশেষ করে খুব সকাল কিংবা সন্ধ্যায় জেলেদের বেশি মাছ ধরতে দেখা যায় এ সৈকতে। দীর্ঘ এ সৈকতে বেড়াতে ভালো লাগবে সবার। টেকনাফ শহর থেকে জিপে চড়ে যাওয়া যায় টেকনাফ সৈকতে।
শাহপরীর দ্বীপ
টেকনাফ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অবস্থিত শাহপরীর দ্বীপ। এটি মূলত সাবরাং ইউনিয়নের একটি গ্রাম। একসময় এটি দ্বীপ থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কিছুকাল আগে এটি মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।  টেকনাফ উপজেলা শহর থেকে শাহপরীর দ্বীপের দূরত্ব প্রায় পনের কিলোমিটার। জনশ্রুতি আছে শাহসুজার স্ত্রী পরীবানুর ‘পরী’ ও শাহসুজার ‘শাহ’ মিলে এ দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে। আবার অন্য একটি মতে শাহ ফরিদ আউলিয়ার নামেই এ দ্বীপের নামকরণ। শাহপরীর দ্বীপের নামকরণের এরকম আরো অনেক ইতিহাস প্রচলিত আছে স্থানীয়দের কাছে। টেকনাফ শহর থেকে জীপে চড়ে যেতে হয় জায়গাটিতে। 
শাপলাপুর সৈকত
টেকনাফ শহর ছেড়ে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে প্রায় বিশ কিলোমিটার গেলে শিলখালী গর্জন বন। সুউচ্চ গর্জন গাছের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া মেরিন ড্রাইভ সকটির ধরে আরো প্রায় দশ কিলোমিটার গেলে নির্জন একটি সমুদ্র সৈকত। এটি শাপলাপুর সমুদ্র সৈকত। এ সৈকতের তীর ঘেঁষে রয়েছে ছোট ছোট আর মাঝারি আকৃতির ঝাউগাছের জঙ্গল। খুব সকাল কিংবা বিকালে এ সৈকতে ঝাঁকে ঝাঁকে নামে লাল কাঁকড়াদের দল। তাছাড়া দীর্ঘ এ সৈকত বেশিরভাগ সময়ই থাকে প্রায় জনমানবহীন। ভ্রমণে যারা নির্জনতাকে পছন্দ করেন তাদের জন্য শাপলাপুর সৈকত আদর্শ জায়গা। টেকনাফ শহর থেকে শাপলাপুর বাজারগামী বাস কিংবা জিপে চড়ে আসা যায় যায়গাটিতে। তবে শাপলাপুর সৈকতটি বাজারের আগেই। তাই পথেই নেমে যেতে হবে।     
সতর্কতা
তিনটি সৈকতেই নেই কোন রকম লাইফ গার্ডের ব্যবস্থা। তাই জোয়ার-ভাটার সাংকেতিক কোন চিহ্নও থাকে না এ সৈকতগুলোতে। তাই সমুদ্র স্নানে নামলে আগে থেকেই নিজ দায়িত্বে জোয়ার ভাটা সম্পর্কে জেনে নিন। কোনো অবস্থাতেই ভাটার সময় সমুদ্রে নামবেন না।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি টেকনাফ যায় সেন্টমার্টিন সার্ভিসের ( ০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৮২৩০০৪৪৮৮) হিনো এসি বাস। ভাড়া ১১৫০ টাকা। এছাড়াও ঢাকা থেকে শ্যামলি, এস আলম, সৌদিয়া, হানিফ ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাস যায় টেকনাফ। ভাড়া ৬৫০-৮০০ টাকা। ঢাকা থেকে যেকোনো বাসে কক্সবাজার এসে সেখান থেকেও সহজেই আসা যায় টেকনাফ। কক্সবাজার শহর থেকে লোকাল মাইক্রোবাসসহ বেশকিছু বাস যায় টেকনাফ। ভাড়া ১২০-২৫০ টাকা। কক্সবাজার থেকে টেকনাফের বাস ছাড়ে আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল থেকে আর মাইক্রোবাসগুলো ছাড়ে শহরের কলাতলী এবং টেকনাফ বাইপাস মোড় থেকে।
কোথায় থাকবেন
টেকনাফে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল নে টং ( ফোন :০৩৪২৬-৭৫১০৪, এসি দ্বৈত কক্ষ ১৯০০ টাকা, এসি স্যুইট ৩১০০ টাকা এবং সাধারণ দ্বৈত কক্ষ ১৩০০ টাকা)। পর্যটনের এ মোটেলটি টেকনাফ শহরের বাইরে। টেকনাফ শহরেও কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে। এসব হোটেলে ৩০০-১৫০০ টাকায় কক্ষ পাওয়া যাবে।

লেখক: আলোকচিত্র ও লেখা মুস্তাফিজমামুন  |  শুক্রবার, ২৭ জুলাই ২০১২, ১২ শ্রাবণ ১৪১৯

No comments:

Post a Comment