Pages

Showing posts with label Buttefly Park. Show all posts
Showing posts with label Buttefly Park. Show all posts

Sunday, July 29, 2012

প্রজাপতি জগতে একদিন


Details
০০ লেখা ও আলোকচিত্র মুস্তাফিজ মামুন ০০ বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পতেঙ্গার খবর সবারই জানা। ঝাউগাছে ঢাকা দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখানকার সমুদ্রসৈকতে হয়তো এসেছেন অনেকেই। কিন্তু পতেঙ্গার নতুন একটি ভ্রমণ গন্তব্যের কথা হয়তো অনেকেরই অজানা। সেটি হলো প্রজাপতির এক জগত—‘বাটারফ্লাই পার্ক’। পতেঙ্গার শাহ আমানত বিমান বন্দরের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে আকর্ষণীয় এ জায়গাটি। বাটারফ্লাই পার্কের সামনে রঙিন প্রজাপতির বিশাল বিশাল ছবিতে মোড়ানো দেয়াল দেখে কারো বুঝতে বাকি থাকবে না, ভেতরটায় কী অপেক্ষা করছে তার জন্য। ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে ছোট্ট কাঠের সেতু পেরিয়ে ওপারেই লোহার জালে তৈরি বিশাল প্রজাপতির জগত। লোহার তৈরি চিকন শেকলের প্রথম দরজার একটু পরেই মোটা পলিথিনের ভার্টিকাল ব্লাইন্ডার ঠেলে ঢুকতে হয় ভেতরে। প্রজাপতি যেন তার জগত ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে না পারে এজন্যই এ রকম প্রবেশদ্বার। ভেতরে ঢুকে একটু চমকেই যেতে হয়। কারণ, সে এক ভিন্নজগত্! ছোট্ট জলধারার চারপাশে নানা রকম গাছপালা, বেশিরভাগই বনফুল। কৃত্রিম ফোয়ারার প্রবাহে সে জলধারা স্রোত। গাছের ছায়ায় ছায়ায় ট্রেতে খাবার দেওয়া। উড়তে উড়তে ক্লান্ত কোনো প্রজাপতি এসে বসে গেছে সেখানে খাবার খেতে। একেক গাছে, ফুলে একেক রকম প্রজাপতি। কারো চঞ্চল ওড়াউড়ি, কেউ আবার বিশ্রাম নিতে হয়তো বসে গেছে পাতার আড়ালে-আবডালে। কোনো কোনো গাছের পাতায় দেখা যাবে শুককিট, যা থেকেই মূলত প্রজাপতির জন্ম। গাছের ছায়ায় ছায়ায় আবার বসার ব্যবস্থাও করা আছে। তবে সে ব্যবস্থাও ভিন্নতর। বসার চেয়ারগুলো দেখে প্রথম দর্শনে কেউ বিশাল আকৃতির কোনো প্রজাপতি ভেবে ভুল করতে পারেন। এতক্ষণ দেখলেন জীবন্ত প্রজাপতি। এবার চলুন প্রজাপতির আরেক জগতে। এটি মূলত প্রজাপতি জাদুঘর। এর ভেতরের দেয়ালে কাচঘেরা বাক্সে সাজিয়ে রাখা আছে নানান প্রজাতির নানান প্রজাপতি। এখানে যেসব প্রজাপতি মারা গেছে, সেগুলো ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মৃত প্রজাপতিগুলো সংগ্রহ করে এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে যত্নের সঙ্গে। প্রজাপতির জাদুঘর থেকে বেরিয়ে একটু সামনে গেলে শিশুদের খেলাধুলার জন্য জায়গাটি সাজানো হয়েছে পরিপাটি করে। পাশেই জলাশয়। সেখানে ফাইবারের তৈরি বোট চালানোর ব্যবস্থা আছে। আর প্রায় পাঁচ শতাধিক লোকের জন্য একটি বনভোজন কেন্দ্রও আছে এখানে। এ ছাড়া বাটারফ্লাই পার্কের একপাশে আছে আধুনিক রেস্ট হাউস আর রেস্তোরাঁ। বেশ সাজানো গোছানো রেস্ট হাউসের কক্ষগুলো। শীতল হাওয়া, উষ্ণ পানির ব্যবস্থা ছাড়াও আধুনিক সব সুবিধা আছে এ রেস্ট হাউসে। বেড়াতে এসে ভালো লেগে গেলে জায়গাটিতে থেকেও যেতে পারেন। প্রয়োজনীয় তথ্য বাটারফ্লাই পার্কে প্রবেশমূল্য বড়দের ১০০ টাকা ও ছোটদের ৫০ টাকা। তবে, বর্তমান প্রবেশমূল্যে ছাড় দিয়ে যথাক্রমে ৫০ ও ৩০  টাকা নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রেস্টহাউজের বাটারফ্লাই স্যুইট কক্ষের প্রতিদিনের ভাড়া ৭,০০০ টাকা, সুপার ডিলাক্স কক্ষের ভাড়া ৫,০০০ টাকা ও সাধারণ কক্ষের ভাড়া ৪,০০০ টাকা। এ ছাড়া এ মূল্যের সঙ্গে রয়েছে ১০% সার্ভিস ও ১৫% ভ্যাট। যোগাযোগ : ১৫, নেভাল একাডেমি, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম। ফোন-০১১৯৫০১০৫০০, ০১১৯৫০১০৬০১। কিভাবে যাবেন    ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও আকাশপথে যেতে পারেন চট্টগামে। সড়কপথে গ্রীনলাইন (০২-৯৩৪২৫৮০), সোহাগ পরিবহন (০২-৯৩৪৪৪৭৭), সৌদিয়া এস আলম (০১১৯৭-০১৫৬৩৬-৬৩৮) ইত্যাদি পরিবহনের বিলাসবহুল এসি বাস যায় চট্টগ্রাম। ভাড়া ৬০০-৮২৫ টাকা। আর গ্রীন লাইন, এস আলম, সৌদিয়া, ইউনিক, শ্যামলী ইত্যাদি পরিবহনের ভালো মানের নন এসি বাসও চলে এ পথে। ভাড়া ৩০০-৩৫০ টাকা। রেলপথে ঢাকা-চট্টগ্রামের পথে মহানগর প্রভাতী ঢাকা ছাড়ে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে, মহানগর গোধুলী ঢাকা ছাড়ে বিকেল ৩টায়, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়ে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে, তূর্ণা ঢাকা ছাড়ে রাত এগারোটায়। ভাড়া এসি বার্থ ৭৫৬ টাকা, এসি সিট ৪৫৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৪৫৫, প্রথম শ্রেণী চেয়ার ২৯০, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৩৮০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৫০, শোভন ১২৫, সুলভ ১০০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমান, ইউনাইটেড এয়ার এবং জিএমজির বিমান চলাচল করে এ পথে। বিমানে গেলে এয়ারপোর্টের সঙ্গেই বাটারফ্লাই পার্ক। এ ছাড়া অন্য যে কোনো বাহনে চট্টগ্রাম শহরে এসে সেখান থেকে পতেঙ্গাগামী বাস কিংবা লেগুনায় চড়ে আসা যায় জায়গাটিতে। চট্টগ্রাম শহর থেকে সিএনজিচালিত বেবিটেক্সিতেও আসতে পারেন, ভাড়া লাগেব ২০০-২৫০ টাকা।

লেখক: রিয়াদ খন্দকার

Friday, July 27, 2012

প্রজাপতির রঙিন রাজ্যে


  • ফুলের বনে প্রজাপতি
    ফুলের বনে প্রজাপতি



জালে ঘেরা বাগান। মাঝখানে কৃত্রিম ফোয়ারার ঝরনাধারা। চারদিকে গাছগাছালি। সবুজের মাঝে মনকাড়া ফুলের সুবাস। আর সবখানে হরেক রঙের প্রজাপতির ওড়াউড়ি—হলুদ, সাদা, ধূসর, কালো, কোনো কোনোটি নানা রঙের মিশেল। কখনো জালের গা ঘেঁষে বসছে। কখনো গাছের পাতায় কিংবা ফুলে ফুলে। অবাধ, নির্ভয় বিচরণ। ক্লান্ত হয়ে পড়লে নিচ্ছে বিশ্রাম। কিছুক্ষণের জন্য গাছের আড়ালে-আবডালে নিজেকে গুটিয়ে রাখছে। পরক্ষণে আবার বেরিয়ে পড়ছে। এ এক ভিন্ন পরিবেশ। 
চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণ প্রান্তে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে প্রজাপতির এ আবাস। নাম প্রজাপতি পার্ক। ইন্ট্রাকো গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। পার্কের সবকিছু প্রজাপতির আদলে করা। ঢোকার মুখে প্রধান ফটকে স্বাগত জানাবে বিশাল আকারের এক প্রজাপতি। অবশ্য সেটি কৃত্রিম—ইট-সিমেন্টের তৈরি। এবার জীবন্ত প্রজাপতির সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চান? তাহলে পার্কের বাম পাশে সোজা চলে যান প্রজাপতির বাগানে (বাটারফ্লাই গার্ডেন)। এটিই পার্কের মূল আকর্ষণ। লোহার ছোট শেকল আর মোটা পলিথিনের ভার্টিকাল স্লাইডারের নিরাপত্তাব্যুহ ঠেলে ভেতরে ঢুকেই বিস্ময়ের শেষ নেই। হাত বাড়ালেই হাতে এসে বসছে প্রজাপতি। আবার উড়ে গিয়ে বসছে কোনো গাছের পাতায়। ছোট-বড় প্রজাপতি রঙিন পাখা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে ঘরময়। একটা-দুটো নয়, অসংখ্য। নানা রঙের প্রজাপতি তৈরি করে অন্য রকম ভালোলাগা। প্রজাপতির এমন রূপে বিমোহিত হয়ে মনের মাঝে বেজে ওঠে ‘প্রজাপতি/প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা’। প্রজাপতির রাজ্য থেকে রেরোতেই চাইবে না মন। মুহূর্তেই যেন তাদের সখা বনে যাওয়া। তবে প্রজাপতির সৌন্দর্য দেখতে হলে আসতে হবে সকাল আটটা থেকে বেলা দুটোর মধ্যে। মূলত তখন খাবারের সন্ধানে ছুটে বেড়ায় তারা। দুপুরের পর বিশ্রামে যেতে থাকে। বিকেলে সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়ে, তখন গাছের পাতায় বিশ্রামে চলে যায় প্রজাপতি। 
জানা গেল, পার্কে বর্তমানে ৫০ প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে। এত সব প্রজাপতি খাবার পায় কোথায়? প্রশ্ন জাগতেই পারে। খাবারটা প্রজাপতির বাগানের মধ্যেই আছে। ঘরে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির গাছগুলো থেকে খাবার সংগ্রহ করে তারা। গাছগুলো সেভাবে লাগানো। তার পরও অতিরিক্ত খাবার দেয় পার্ক কর্তৃপক্ষ। ট্রেতে ছোট ছোট পাত্রে সাজানো থাকে খাবার। উড়ে উড়ে ক্লান্ত প্রজাপতি খিদে পেলে বসে পড়ছে ট্রেতে। সে খাবারের তালিকায় রয়েছে আনারসের রস, মধু ও গ্লুকোজ। এত ফল থাকতে শুধু আনারাস কেন? প্রজাপতির কি আনারস বেশি প্রিয়? পার্কের প্রকল্প পরিচালক এ কে এম মঈনুদ্দিন জানালেন সেই আনারস-রহস্য। বললেন, ‘আমরা অন্যান্য ফল দিয়ে দেখেছি। কিন্তু প্রজাপতি এসব ফল খায় না। কারণ ওই সব ফলে কেমিক্যাল দেওয়া। মানুষ বুঝতে না পারলেও প্রজাপতি ঠিকই ধরে ফেলে। ওরা এসব খায় না। তাই আনারসে যেহেতু কেমিক্যাল মেশানো হয় না, সেজন্য এটিই বেছে নেওয়া।’ শুধু যে পার্ক কর্তৃপক্ষের দেওয়া খাবার খায় প্রজাপতি, তা নয়। দর্শনার্থীরা চাইলে প্রজাপতিকে খাবার দিতে পারেন। অবশ্য সেসব খাবার পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কিনে নিতে হবে। 
প্রজাপতির রূপে বিমোহিত হয়ে বাগান থেকে বের হতেই চোখে পড়বে আরেক বিশাল প্রজাপতি। এত বড় প্রজাপতি! কাছে গেলে ভ্রম ভাঙবে। আসলে এটি প্রজাপতির বেঞ্চ। যেখানে বসলে মনে হবে নিজেরই বুঝি প্রজাপতির ডানা গজাল। ডানা নিয়ে সন্তুষ্ট না হলে নিজেই হয়ে যেতে পারেন প্রাজপতি! সে ব্যবস্থাও আছে। প্রজাপতির একটি ডামিতে শুধু মুখের দিকটা ফাঁকা। সেখানে মাথা দিয়ে ক্যামেরায় ক্লিক করলেই সহজে বনে যাওয়া যায় প্রজাপতি। উড়তে না পারলেও অন্তত প্রজাপতি হওয়ার স্বাদ তো মিটল!
দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে প্রজাপতি জাদুঘর। এ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে বিরল সব প্রজাতির প্রজাপতিও। পার্কের কোনো প্রজাপতির মারা গেলে সেটি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আবার কোথাও বিরল প্রজাতির কোনো প্রজাপতির সন্ধান পেলে তা-ও এনে রাখা হচ্ছে এখানে। জাদুঘরে বাংলাদেশে শনাক্ত হওয়া প্রজাপতির মধ্যে ১৫০ প্রজাতি রয়েছে। 
লালন-পালনের পাশাপাশি প্রজাপতির প্রজননও হচ্ছে এখানে। প্রজাপতি ডিম দিলে তা পার্কের কৃত্রিম প্রজননকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে নতুন প্রজাপতির আগমন ঘটানো হয়। প্রাকৃতিকভাবেও প্রজাপতির প্রজনন হয়। কিন্তু এতে নানা বাধা পেরোতে হয়। মোকাবিলা করতে হয় শত্রুর। সাধারণত একটি মা-প্রজাপতি ১৫০ থেকে ২০০ ডিম দেয়। কিন্ত তা থেকে প্রজাপতি হয় মাত্র দুই থেকে তিন শতাংশ। অনেক ডিম ন্ষ্ট করে দেয় পিঁপড়া বা অন্যান্য কীটপতঙ্গ। অবশ্য পার্কে প্রকৃতিক প্রজননও নির্বিঘ্নে করতে ব্যবস্থা নেওয়া আছে। প্রজাপতির সংখ্যা আরও বাড়াতে পার্কের উত্তর কোণে নির্মাণ করা হচ্ছে আরও বড় পরিসরের আধুনিক প্রজননকেন্দ্র। এটি চালু হলে প্রজাপতির ডিম নষ্টের হার একেবারে কমে আসবে।
যেভাবে শুরু
বাইরের দেশের প্রজাপতি পার্ক দেখে বাংলাদেশেও এ পার্ক করার উদ্যোগ নেয় ইন্ট্রাকো গ্রুপ। উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য দেশের একমাত্র প্রজাপতি পার্কটি হয়ে উঠবে একটি গবেষণাকেন্দ্রও। ইতিমধ্যে দেশে শনাক্ত হওয়া অনেক প্রজাতির প্রজাপতি হারিয়ে গেছে। বর্তমানে যেগুলো আছে, সেগুলো যেন বংশ বৃদ্ধির অভাবে হারিয়ে না যায়, তাঁরা সে চেষ্টাই করে যাচ্ছেন। সে লক্ষ্যে ছয় একর জায়াগায় ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল এ পার্কের যাত্রা শুরু।
পার্কের প্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শফিক হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘বিদেশে প্রজাপতি পার্ক বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। আমাদের দেশেও সম্ভব। পার্কের নতুন প্রজননকেন্দ্র চালু হলে প্রজাপতির সংখ্যা আরও বাড়বে। জালের বাগানের বাইরে পুরো পার্কেই তখন প্রজাপতি উড়ে বেড়াবে।’

আশরাফ উল্লাহ, চট্টগ্রাম