Pages

Showing posts with label Moulavibazar. Show all posts
Showing posts with label Moulavibazar. Show all posts

Sunday, July 29, 2012

মাধবছড়ার পথে লো…

madhabchhara
দিগন্তবিস্তৃত সবুজ, এক পাশে হাকালুকি হাওরের হাতছানি মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের কথা জানি। কিন্তু মাধবছড়া! না, এটা সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মার কাছ থেকেই প্রথম স্থানটি সম্পর্কে জানা। তারপর একদিন ভরদুপুরে মাধবছড়ার পথে বেরিয়ে পড়া। মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম সড়কের বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলি থেকে মাধবকুণ্ডে যাওয়ার যে পথ, সেই পথেই মাধবছড়া। মাধবকুণ্ডে যাওয়ার আগে একটি বাঁক আছে। সেই বাঁক থেকে সোজা পূর্বমুখী এগিয়ে গ্রামীণ পথ ধরে যেতে যেতে যেখানে পথ বলে দিল এবার থামো, সেখান থেকেই আসলে মাধবছড়ার শুরু।
কাছেপিঠে তেমন কাউকে না পেয়ে অনেকটা অনুমাননির্ভর একটি পাহাড়ি ছড়ায় নামলাম। ছড়ায় ক্ষীণ জলধারা বইছে। পায়ে ছোট ছোট পাথরের খোঁচা সত্ত্বেও ঠান্ডা পানির ছোঁয়া ভালোই লাগে। তবে ছড়ায় বেশি দূর যেতে হয় না—এই পাঁচ-সাত মিনিট হাঁটলেই চলে। তারপর পাহাড়ি পথ। আর থমকে দাঁড়ানোর দরকার নেই। পথই পাহাড়ের চূড়ার দিকে টেনে নিয়ে যায়। দুই পাশে গাছপালা, অনেক ধরনের বুনো গাছ। বুনো ফুল। লতাপাতা। মাঝেমধ্যে দু-একটা পাখির ডাক। পাহাড়ের পথেই দেখা বড়লেখার পরনগর গ্রামের আবু তাহেরের (৫৫) সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘আগে এখানে বন ছিল। বনের মধ্যে অল্প অল্প বাঁশ। বনে বাঘ দেখা যেত। ভয়ে আসতাম না।’
তাঁর কাছ থেকেই জানা গেল, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবছড়া পাহাড়ে একসময় বিশাল জঙ্গল ছিল। বনজ বিভিন্ন জাতের চেনা-অচেনা গাছপালা ও মুলি বাঁশের ঝাড় ছিল। বাঘ, হাতি, ভালুক, হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য পশু এখানে অবাধে ঘুরে বেড়িয়েছে। সমতলভূমি থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উচ্চতায় সেখানে মানুষের বিচরণ ছিল কম। এখন সেখানে প্রাকৃতিক গাছ, লতাপাতা ধ্বংস করে করা হয়েছে সামাজিক বনায়ন। লাগানো হয়েছে পরিবেশবান্ধব নয় এমন একাশিয়া বা আকাশমণি জাতের গাছ। যেখানে প্রাকৃতিক নিয়মে বনজ গাছপালার পুনরুৎপাদন হওয়ার কথা, সেখানে এত উঁচুতে সামাজিক বনায়ন কেন, বোঝা গেল না। বড়লেখার মাঠ গুদাম এলাকার মো. আবদুস শহীদ (৪০) বললেন, ‘এই পাহাড়ে লতাগুল্ম আর বাঁশবন ছিল। হরিণ, বনমোরগ, শূকর, হাতি দেখা যেত। সামাজিক বনায়নের পর বন্য প্রাণী কম দেখা যায়। বন পরিষ্কার করায় লুকানোর জায়গা নেই। থাকবে কোথায়? তবে বছরে একবার বৈশাখ মাসে গাছপালায় নতুন পাতা গজালে খাওয়ার জন্য ওপার (ভারতীয় বন এলাকা) থেকে হাতির দল আসে।’ কেমন শিহরণ লাগে। যদি হঠাৎ সামনে পথ আগলে দাঁড়ায় বুনো হাতির দল! কিংবা বুনো শূকর! আবার চমক দিয়ে রঙিন পালক নাচিয়ে ডেকে উঠতে পারে হঠাৎ কোনো বনমোরগ। হয়তো বা ঝাঁকবেঁধে ছুটতে পারে পাতার ফাঁকে!
যতই ওপরে উঠতে থাকি, যেন চোখ খুলতে থাকে। যেন নিজেকে ছাড়িয়ে আরও ওপরে, আরও কোনো চূড়ার দিকে যাত্রা। দুই পাশে ঝোপঝাড়ে ঝিঁঝিপোকা, অচেনা পাখির ডাক। রংবেরঙের প্রজাপতির ওড়াউড়ি। চলার পথ অনেকটাই ঢালু মতো, আবার কিছু কিছু জায়গা খাড়া। তবু উঠতে তেমন একটা বেগ পেতে হয় না। একসময় চূড়ায় উঠলে চড়াই-উতরাই পথের কষ্ট আর মনেই থাকে না। পাহাড়ের ওপর আকাশমণি বা একাশিয়ার গাছ বেড়ে উঠছে। তবু ছায়ানিবিড় একটা পরিবেশ। শুনেছি, এই গাছ ১৪-১৫ বছরের হলে কেটে ফেলা হবে। আবার বনায়ন হবে। এতে হয়তো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টাকার জোগান আসবে। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশটি দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এ রকমই বলেন পরিবেশসচেতন লোকজন। এই গাছে তো আর সব পাখি বসবে না, সব পাখি বাসা বাঁধবে না, গান গাইবে না। ঝোপ-জঙ্গল নেই তো বুনো পশুর দল থাকবে কোথায়? দেখা গেল বেশ কিছু পেঁপেগাছ। ব্রিটিশ আমলে খনন করা একটি পরিত্যক্ত তেলকূপের ইটের স্থাপনার অংশ লতাপাতার ফাঁকে জেগে আছে। পাহাড়চূড়া থেকে যেদিকেই চোখ যায় দিগন্তজোড়া সবুজ। অনেক দূরে হাকালুকি হাওরের আভাস। কেমন ধু-ধু সবুজের বিস্তার। মাধবছড়ায় জলপ্রপাত নেই। তাতে কী! চোখ মেলে কেবল চারপাশ দেখুন। চমকে উঠবেন, ঘন সবুজের প্রাচুর্য দেখে। মাধবছড়া আর মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পাশাপাশিই। তবু আলাদা মাধুর্যের পাঠ। মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত দেখে একবার মাধবছড়ায় ঘুরে আসা যায় যেমন, তেমনি মাধবছড়ার নিরিবিলিতেই দিনের আলোর পুরো সময়টি কাটিয়ে দেওয়া যায়। তবে সন্ধ্যার আগেভাগেই পাহাড় ছেড়ে নেমে এলে ভালো।
যাবেন যেভাবে
মাধবছড়ায় যাওয়া যায় মাধবকুণ্ডের পথেই। মাধবকুণ্ডে যাওয়ার আগে মাধবছড়ার পথ। পথই টেনে নিয়ে যাবে। এখানে থাকা-খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। বেশিক্ষণ থাকলে সঙ্গে হালকা খাবার, পানি—এসব নিয়ে গেলে ভালো। বনে হাঁটার উপযোগী জুতা পরবেন। বৃষ্টির সময় সঙ্গে ছাতা থাকাও দরকার। আর মাধবকুণ্ডে যাওয়ার রাস্তা মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম সড়কের কাঁঠালতলি থেকে। এখানে আসা যেতে পারে সড়কপথে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে। নতুবা ট্রেনে করে কুলাউড়া জংশন। তারপর অন্য কোনো যানবাহনে।
আকমল হোসেন
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, আগস্ট ০৩, ২০১০

বর্ষায় মৌলভীবাজার


Details
সিলেট বিভাগের জেলা মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় দুটি জলপ্রপাত। এ ছাড়াও বেশ কিছু বেড়ানোর জায়গা আছে জেলা শহরের আশপাশে। এসব নিয়েই কড়চার এবারের বেড়ানো।  
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। প্রায় ২৭০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া এ জলপ্রপাত সারা বছরই বহমান থাকে। তবে বর্ষায় পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। মাধবকুণ্ড ইকো পার্কের প্রধান ফটক ফেলে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ হাঁটার পরে জলপ্রপাতে এসেই সড়কটি শেষ হয়েছে। জলপ্রপাতের কাছেই আছে একটি খাসিয়া পুঞ্জি। খাসিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছোট্ট এ গ্রামটি ছবির মতো সুন্দর।   
পরীকুণ্ড জলপ্রপাত
মাধবকুণ্ড ঝরনার কিছুটা আগে শিব মন্দিরের বিপরীত দিক থেকে পাথুরে ঝিরি পথটি শেষ হয়েছে পরীকুণ্ড জলপ্রপাতে। এ ঝরনাটির সৌন্দর্য মাধবকুণ্ডের চেয়েও অনেক বেশি। তবে এটি কেবল বর্ষাকালেই প্রাণ ফিরে পায়। 
হাকালুকি হাওর
দেশের অন্যতম হাওর হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে অবস্থিত। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পশ্চিম প্রান্তে পড়েছে হাকালুকির একটি অংশ। হাকালুকি হাওরের নামকরণ নিয়ে অনেক কাহিনি প্রচলিত আছে। জানা যায়, বহু বছর আগে ত্রিপুরার মহারাজ ওমর মানিক্যের সৈন্যদের ভয়ে বড়লেখার কুকি দলপতি হাঙ্গর সিং জলমগ্ন এ জায়গায় লুকিয়ে থাকে। এ কারণে এ এলাকার নাম হয় হাঙ্গর লুকি বা হাকালুকি। এ রকম আরও একটি কাহিনি হলো এক সময় বড়লেখার পশ্চিমাংশে হেংকেল নামে এক আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস ছিল। তাদের সে এলাকার নাম ছিল হেংকেলুকি। পরবর্তীতে হেংকেলুকি থেকেই হাকালুকির উদ্ভব হয়।
প্রায় ১৮১ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত এ হাওরের প্রায় ৭০ ভাগই মৌলভীবাজার জেলাতে। বর্ষায় এ হাওর প্লাবিত হয়ে বিশাল রূপ ধারণ করে। তখন এর গভীরতা থাকে ৬-২০ ফুট। শুষ্ক মৌসুমে হাওরের বেশিরভাগই শুকিয়ে যায়। শুধু হাওরের প্রায় ২৩৮টি বিলে সারা বছরই কম বেশি পানি থাকে।     
বর্ষিজোড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল
মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে রয়েছে বর্ষিজোড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এর আরেক নাম লাউডগা রিজার্ভ ফরেস্ট। প্রায় আটশো একরেরও বেশি জায়গার উপরে বর্ষিজোড়া পাহাড়ের উপরে এ বন যার প্রধান বৃক্ষ শাল। 
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে মৌলভীবাজার যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ (০১৭১১৯২২৪১৭), শ্যামলী পরিবহন (০১৭১১৯৯৬৯৬৫), সিলেট এক্সপ্রেস (০১৭১৩৮০৭০৬৯), টি আর ট্রাভেলস (০১৭১২৫১৬৩৭৮) ইত্যাদি বাস যায় মৌলভী বাজার। ভাড়া নন এসি বাসে ২৫০ টাকা।  টি আর ট্রাভেলসের এসি বাসে ভাড়া ৩৫০ টাকা। ট্রেনে মৌলভীবাজার যেতে হলে নামতে হবে কুলাউড়া স্টেশনে। ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, দুপুর ২টায় প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টায় ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া এসি বার্থ ৫৮১ টাকা, এসি সিট ৩৯৭ টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৩৪৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৩৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৩৮০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৫০ টাকা, শোভন ১৩০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টায় উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া প্রথম শ্রেণী বার্থ ৪১৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৮৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৪৭২ টাকা, শোভন চেয়ার ১৮৫ টাকা, শোভন ১৭০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
মৌলভীবাজারে থাকার জন্য কয়েকটি সাধারণ মানের হোটেল আছে। শ্রীমঙ্গল রোডে হোটেল সোনারগাঁও (০৮৬১-৬৪৬০৭), শহরের কুসুমবাগে হোটেল শেরাটন প্লাজা (০৮৬১-৫২০২০), সাইফুর রহমান রোডে হোটেল হেলাল (০৮৬১-৫২৫৩৫)। এসব হোটেলে প্রতিদিনের রুম ভাড়া ১৫০-৫০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে ‘দেখুন বাংলাদেশ’
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার ২০১১। মেলাটি চলবে আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত। এ মেলার স্টলে পাওয়া যাবে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণের গাইড ‘দেখুন বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর বর্ণনা, যাতায়াত তথ্য, হোটেল-রিসোর্টের তথ্যসহ বেড়ানোর সবধরনের তথ্য মিলবে বইটিতে। পেপার ব্যাক বাঁধাই প্রায় ৭৫০ পৃষ্ঠার অফসেটে ছাপা বইটিতে বাংলাদেশের সব জায়গার ২৫০ পৃষ্ঠাজুড়ে রয়েছে রঙিন আলোকচিত্র। এ ছাড়া প্রতিটি জেলার রঙিন মানচিত্রও স্থান পেয়েছে বইটিতে। অবসর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটির দাম ৭৫০ টাকা। মেলার এম ৩৫ নম্বর স্টলে পাওয়া যাবে বইটি।

আলোকচিত্র ও লেখা: মুস্তাফিজ মামুন

মাধবকুণ্ডের দুই জলপ্রপাত


Details
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় দুটি জলপ্রপাত। দুটি ঝরনার একটি সারা বছর শুকনো থাকলেও বর্ষা মৌসুমে জীবন্ত হয়ে ওঠে। অন্যটিতে পানি প্রবাহ বেড়ে যায় এ সময়ে।
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। প্রায় ২৭০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া এ জলপ্রপাত সারা বছরই বহমান থাকে। তবে বর্ষায় পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। মাধবকুণ্ড ইকো পার্কের প্রধান ফটক ফেলে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ হাঁটার পরে জলপ্রপাতে এসেই সড়কটি শেষ হয়েছে। পথের একপাশে মাধবকুণ্ড ইকো পার্ক, আরেকপাশে পাহাড়ের ঢালে ঢালে খাসিয়াদের পুঞ্জি আর চা বাগানের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে দশ মিনিটে পৌঁছা যায় মাধবকুণ্ডের নিচে। সবুজে ঘেরা বিশাল উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে ঝরনাধারা নিচে গড়িয়ে পড়ছে অনবরত। ঝরনার সে পানি ছড়াপথে বয়ে চলে দূর থেকে দূরান্তে। হিম শীতল ঝরনার জল প্রাণ জুড়ায় পর্যটকের।
পরীকুণ্ড জলপ্রপাত
মাধবকুণ্ড ঝর্ণার কিছুটা আগে শিব মন্দিরের বিপরীত দিক থেকে পাথুরে ঝিরি পথটি শেষ হয়েছে পরীকুণ্ড জলপ্রপাতে। এ ঝর্ণাটির সৌন্দর্য মাধবকুণ্ডের চেয়েও অনেক বেশি। সবুজে ঘেরা উঁচু পাহাড়ের গা বেয়ে এখানে নেমে আসে স্বচ্ছ জলধারা। এ ঝরনাটি প্রায় সারা বছরই শুকনো থাকে। শুধু প্রাণ ফিরে পায় বর্ষায়। পরীকুণ্ডে যাবার ঝিরি পথটি বেশ পিচ্ছিল। তাই সাবধানে চলতে হবে এ পথে।
মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক
পাহাড়ের ঢালে ঢালে নানান গাছগাছালিতে ঢাকা মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের সৌন্দর্যও কোনো অংশে কম নয়। মাধবকুণ্ড ঝরনায় যাবার পথে পাহাড় বেয়ে কয়েকটি সিঁড়িপথ উঠে গেছে ইকো পার্কে। ঝরনার ঠিক আগে পাহাড়েরর ওপরে আছে একটি উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। এ টাওয়ারে উঠলে মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের বহু দূর দেখা যায়।   
খরচপাতি
মাধবকুণ্ডের প্রবেশ মূল্য প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য দশ টাকা, অপ্রাপ্ত বয়স্ক পাঁচ টাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩০-১০০ জনের জন্য একশত টাকা, ১০১-২০০ জনের জন্য দুইশত টাকা। বিদেশি পর্যটকের জন্য এক আমেরিকান ডলার বা সমমূল্যের টাকা। পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠতে জনপ্রতি লাগবে পাঁচ টাকা। প্রাইভেট কার ও মাইক্রো বাসের পার্কিং মূল্য ৫০ টাকা।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে রেল ও সড়ক পথে মৌলভীবাজার যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ (০১৭১১৯২২৪১৭), শ্যামলী পরিবহন (০১৭১১৯৯৬৯৬৫), সিলেট এক্সপ্রেস (০১৭১৩৮০৭০৬৯), টি আর ট্রাভেলস (০১৭১২৫১৬৩৭৮) ইত্যাদি বাস যায় মৌলভী বাজার। ভাড়া নন এসি বাসে ২৫০ টাকা।  টি আর ট্রাভেলসের এসি বাসে ভাড়া ৩৫০ টাকা। ট্রেনে মৌলভীবাজার যেতে হলে নামতে হবে কুলাউড়া স্টেশনে। ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬.৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, দুপুর ২.০০ মিনিটে প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০.০০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া এসি বার্থ ৫৮১ টাকা, এসি সিট ৩৯৭ টাকা, প্রথম শ্রেণী বার্থ ৩৪৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৩৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৩৮০ টাকা, শোভন চেয়ার ১৫০ টাকা, শোভন ১৩০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮.১৫ মিনিটে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯.০০ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস। ভাড়া ভাড়া প্রথম শ্রেণী বার্থ ৪১৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী সিট ২৮৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণী ৪৭২ টাকা, শোভন চেয়ার ১৮৫ টাকা, শোভন ১৭০ টাকা।
কোথায় থাকবেন
মৌলভীবাজারে থাকার জন্য কয়েকটি সাধারণ মানের হোটেল আছে। শ্রীমঙ্গল রোডে হোটেল সোনাগাঁও (০৮৬১-৬৪৬০৭), শহরের কুসুমবাগে হোটেল শেরাটন প্লাজা (০৮৬১-৫২০২০), সাইফুর রহমান রোডে হোটেল হেলাল (০৮৬১-৫২৫৩৫)। এসব হোটেলে প্রতিদিনের রুম ভাড়া ২০০-১০০০ টাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে।

লেখক: লেখা ও আলোকচিত্র মুস্তাফিজ মামুন